নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১২ মে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ২০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ খ্যাত এই মহীয়সী নারীর স্মরণে ১৯৭৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি।
বর্তমান বিশ্বে নার্সিং শুধু মানবসেবামূলক পেশাই নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ২০২৫-২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, নার্স রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইন। দেশটি বিশ্বের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নার্স সরবরাহ করে বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আয় করছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারত আয় করছে প্রায় ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানও নার্সিং খাতে বৈদেশিক আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার হলেও বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনো প্রায় ৮২ শতাংশ নার্সের ঘাটতি রয়েছে।
দেশে নার্সিং শিক্ষার প্রসারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, দেশে ২২ জন নার্স পাবলিক হেলথ বা কমিউনিটি নার্সিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং বিদেশ থেকে আরও ১৬ জন এই ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নিয়ানার (NIANER) থেকে ইতোমধ্যে ৪১০ জনের বেশি নার্স এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিএসএমএমইউসহ ২১টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমএসসি কোর্স চালু রয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো নার্সিংয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সম্ভাবনাময় এই খাতে এখনো রয়েছে নানা সংকট। সরকারি চাকরিতে আলাদা বেতন কাঠামো না থাকা, যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ সীমিত থাকা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী নার্সিং পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও বর্তমানে ইতালি প্রবাসী মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“দেশে নার্সিং শিক্ষার প্রসার ইতিবাচক হলেও দ্রুত নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন, যোগ্য নার্সদের পদোন্নতি এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এই খাত দেশের জন্য শক্তিশালী রেমিট্যান্স আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ নার্স তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশও ভবিষ্যতে ফিলিপাইন বা ভারতের মতো বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জনে সক্ষম হবে।