শিরোনাম :
ত্যাগ-তিতিক্ষার পথ পেরিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ খুরশীদ আলম পুত্র হারানোর এক বছর, স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন সাংবাদিক জলিলের পরিবার নরসিংদীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায়, প্রবাসীর জমিতে গড়া মক্তব-ঘরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াত সমর্থিত কর্মীর বিরুদ্ধে আমলাব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃকয়েস মিয়া, জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় কুলিয়ারচরের সম্রাট আলমগীর BULA-এর যুগ্ম আহ্বায়ক প্রবাসীর সাথে যত হয়রানি ও প্রতারণা! যেন দেখার কেউ নাই জামালপুরে গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মাদারগঞ্জে সেচ পাম্পের ঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার কিশোরগঞ্জ-জামালপুরের সরকারি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পেলেন ইয়াসের খান চৌধুরী বকশীগঞ্জে অবৈধভাবে ৭২ বস্তা সার মজুদ, ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে হাত-পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে আদালত চত্ত্বরে ভুক্তভোগী, তিন মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসাম

প্রকাশকাল : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

ছবিঃ দেশ বাংলা

পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রায় ৩ মাস আগে সুজন মুন্সি (৩০) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিলেও আজও পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে ওঠেননি তিনি। এমনকি গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামীও৷ অন্য দুইজন আসামী আদালতে জামিন নিতে আসলে তাঁদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে একটি হুইল চেয়ারে বসে আদালতে আসতে হয়েছে তাকে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জজ কোর্টের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ম আদালতের বারান্দায় দেখা মিলে সুজন মুন্সির। সে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে।

জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র চাপাতি ও রামদা দিয়ে সুজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ডান হাত ও ডান পা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁর ডাক চিৎকারে বাঁচাতে বড় ভাই হায়দার মুন্সি (৩৫) ছুটে গেলেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকেও কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পরের দিন চরভদ্রাসন থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন মা নিরু বেগম।

আসামীদের মধ্যে রয়েছে- ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার নূর ইসলাম মন্ডলের ছেলে কালাম মন্ডল (৪০), ইউসুফ মন্ডলের ছেলে সাত্তার মন্ডল (৩৫), বারেক মন্ডলের ছেলে শাহ বরাত মন্ডল (২৪) ও পাশ্ববর্তী বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের আক্কাস মন্ডলের ছেলে শামীম মন্ডল (৩০)।

আসামীদের মধ্যে প্রধান আসামী কালাম মন্ডল ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাত মন্ডল গত বৃহস্পতিবার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ম আদালতে (চরভদ্রাসন কোর্ট) আদালতে জামিন নিতে আসলে জামনি না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক। ওইদিনে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করা হয় আজ সোমবার। এদিন বিচ্ছিন্ন হাত-পায়ে সাদা ব্যান্ডেজ জড়িয়ে হুইল চেয়ারে আদালতে আসেন সুজন মুন্সি। তাঁর সঙ্গে আসেন মা নিরু বেগম, স্ত্রী বেবী বেগম ও ভাই হায়দার মুন্সি।

এক পর্যায়ে তাঁর কথা শুনেন বিচারক। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন এবং বিচারক একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, দুইজন আসামী আদালতে জামিন চাইলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করেছেন। আজ তাঁদের শুনানি ছিল এবং ন্যায় বিচার ও অস্ত্র উদ্ধারে প্রত্যেককে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে দীর্ঘ তিনমাসেও প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার না করা ও বিচার না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুরো পরিবার। এ ঘটনায় তাঁরা দ্রুত প্রধান আসামীসহ অন্যদের গ্রেপ্তার ও ন্যায় বিচার চেয়েছেন। পাশাপাশি ছোট্ট চার সন্তানের সংসারে মানবেতর জীবনযাপনের কথা জানান স্ত্রী বেবী বেগম।

তিনি বলেন- আমার ছোট্ট চারজন বাঁচ্চা, আমি ওদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব। আমার স্বামীকে যারা চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে আমি তাঁদের ফাঁসি চাই। আমার স্বামী থাকতেও যেন মৃত অবস্থায় আছে। সারাক্ষণ যন্ত্রণায় চিৎকার করে, পায়খানা-প্রসাব করতে গেলেও জ্বালাপোড়ায় চিৎকার করে; একা একা খেতেও পারে না। তাই আমি ন্যায় বিচার চাই, আমার মতো এমন পরিস্থিতিতে যেন কেউ না পড়ে।

এ সময় মা নিরু বেগম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন- আমার ছেলে রাজমিস্ত্রী কাজ করে বাড়িতে ফিরতেছিল। ওই সময় তাঁর কলার ধরে নিয়েই কোপাইতে থাকে৷ আমার ছেলের এক হাত আর এক পা কেটে ফেলছে, ওর পেটেও কোপায়ছে, কোমরে কোপাইছে। এভাবে মানুষ মানুষকে কোপাতে পারে না, আমি মা হয়ে কেমনে সহ্য করব। পুলিশও আসামী ধরে নাই। তাই আমি আদালতের কাছে সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোজাম্মেল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন- আমি দ্বিতীয় তদন্তকারী হিসেবে গত ১০ দিন আগে মামলাটির দায়িত্ব পেয়েছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তাঁরা জামিন নিতে এলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় এজাহারনামীয় দুইজনসহ তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রধান আসামীসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আশা করি- দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category